Boichoi Tribute to Author Bonoful

Boichoi Tribute to Author Bonoful

Boichoi.com – বনফুল এর বইয়ের সংকলন এই লিংকে – https://boichoi.com/product-category/bengali/…

এর তরফ থেকে সাহিত্যিক বনফুল কে জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি – Written by Rai Das

১৯৩৫ সালের গোড়ার দিকের কথা । এক দিন সকালে কালীঘাট মন্দির প্রাঙ্গনে হুলুস্থুল কাণ্ড, একেবারে লোকে লোকারণ্য মন্দির সংলগ্ন রাস্তা। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, রামচন্দ্র শর্মা নামের রাজস্থান নিবাসী এক ব্রাহ্মণ মন্দিরে পশু বলি বন্ধ করার দাবী নিয়ে অনশনে বসেছেন । নিজ ধর্মচারনের রীতিনীতিতে এহেন আঘাতের বিরুদ্ধে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই গর্জে উঠল বেশীর ভাগ বাঙালী। কিন্তু ছন্দপতন হল, যখন স্রোতের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ঘটনাকে সমর্থন করে বসলেন। আরও অনেক বাঙালীর মতোই একজন কবিও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারলেন না । আনন্দবাজার পত্রিকার দোল সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ব্যাঙ্গ করে লিখে ফেললেন আস্ত একটা কবিতা । উদারমনস্ক বিশ্বমানব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতাটি পড়ে রাগ করা তো দূরের কথা বরং ব্যাকুল হয়ে উঠলেন কবির সাক্ষাত লাভের জন্য । কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই একরোখা একবগগা কবি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দিলেন, এক তো তিনি ব্রাহ্মণ, তার ওপর আবার ডাক্তার, সুতরাং কল না পেলে ভিসিট করবেন না । অবশেষে সেই বন্দোবস্তই করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সে আলাপ আগামি দিনে ঘনিষ্ট সখ্যতায় পর্যবসিত হয়েছিল।সময়ের সিঁড়ি বেয়ে আরও কিছু টা পিছিয়ে যাওয়া যাক । সাহেবগঞ্জ রেলওয়ে হাইস্কুলের করিডোরে স্কুলের হেড পণ্ডিত রামচন্দ্র ঝাঁ ক্রোধান্বিত হয়ে পাইচারি করছেন । এক হাতে বেত অন্য হাতে মালঞ্চ নামের একটি পত্রিকা । সেখানেই কবিতা বেরিয়েছে স্কুলের ছাত্র বলাই এর । বাকিরা সবাই খুব উচ্ছ্বসিত হলেও পণ্ডিত মশাই এর দৃঢ় বিশ্বাস, এসব করে সময় নষ্ট না করলে বলাই সংস্কৃতে একশো তে একশো পাওয়ার ক্ষমতা রাখে। অতঃপর বলাইকে ডাক প্রেরণ এবং কবিতা লিখতে মানা করা । কিন্তু বলাই তো বলাই, ছোটবেলা থেকেই একবগগা আর একরোখা, অগ্রজস্থানীয় সুধাংশুশেখর মজুমদারের পরামর্শে লিখতে থাকলেন ছদ্মনামে। যে ছদ্মনামে আজও তিনি অমর, তিনি বনফুল ওরফে ডঃ বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় । ১৮৯৯ সালের ১৯ শে জুলাই, বিহারের মনিহারিতে জন্মগ্রহণ করেন বনফুল । পিতা ডঃ সত্যচরন দাস আদতে হুগলীর শিয়াখালার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে তখন বিহারে। তাই বনফুলের জীবনের অধিকাংশ সময়টাই কেটেছে বিহারে । শুধু মাঝে ডাক্তারি পড়তে কলকাতায় আসা আর শেষ বয়সে ১৯৬৮ সালে কোলকাতার লেকটাউনে এসে স্থিতু হয়ে বসেন। খুব অল্পবয়স থেকেই কবিতা লিখলেও গদ্যে হাত দেন তার অনেক পরে। তৃণখণ্ড, বৈতরণীর তীরে, ভুবন সোম, অগ্নীশ্বর, হাটেবাজারে, জলতরঙ্গ, সীমারেখা, মৃগয়া, নবদিগন্তর মতো প্রায় ষাটটি সম্পূর্ণ উপন্যাস তার ঝুলিতে । এছাড়াও আছে ৫৮৬ টি ছোট গল্প আর অসংখ্য প্রবন্ধ। তাঁর লেখা উপন্যাসের চরিত্র ভুবন সোম এবং অগ্নীশ্বর কে চলচিত্রের রূপোলী পর্দায় রূপদান করেন স্বয়ং উৎপল দত্ত এবং উত্তম কুমার । তাঁর মাংসপ্রীতির গল্প এতটাই সুবিদিত ছিল যে উৎপল দত্ত , অশোক কুমার প্রমুখ স্বনামধন্য ব্যক্তিরা নিজে হাতে তাঁর জন্য মাংস রান্না করে আনতেন । তাঁর একশোতম জন্মবার্ষিকীতে ভারত সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয় তাঁর নামাঙ্কিত পোস্টাল স্ট্যাম্প। মাত্র ৭৯ বছর বয়সে কোলকাতার নিজ বাসভবনে বৈতরণী খেয়ায় সওয়ার হন এই ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক। Boichoi.com#এর_পক্ষ_থেকে_সাহিত্যিক_বনফুল_কে_জানাই_অন্তরের_শ্রদ্ধাঞ্জলি🙏

#boichoi

Quick Navigation
×
×

Cart