Moti Nandi Tribute – 90th Birthday

Written by Rai Das | Follow us on Facebook – BoiChoi Page

২০০৮ সালের এক ঝলমলে সন্ধে, কানায় কানায় ভরপুর সল্টলেক স্বভূমি প্রেক্ষাগৃহ। উপলক্ষ সারা ভারতব্যাপী জার্নালিসম এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড, তাও আবার এটাই প্রথম বর্ষ। সারা প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে শহরের সব গণ্যমান্য সব ব্যাক্তিত্ত আর সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নামকরা সব সাংবাদিক দের চাঁদের হাট বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। মঞ্চ আলো করে দাঁড়িয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্ট মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি। ঘোষণা করলেন দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম ক্রীড়াসাংবাদিকতায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রাপকের নাম। তুমুল হাততালিতে ফেটে পড়ল প্রেক্ষাগৃহ। যদিও সাতাত্তর বছর বয়সী অশীতিপর পুরষ্কার প্রাপকের জীবনে অ্যাওয়ার্ড বা জন আবেগের বিস্ফোরণ কোনটাই আজ প্রথম বার নয়, ঝুলিতে আগে থেকেই রয়েছে আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এর মতো নামকরা সব পুরস্কার আর জন আবেগ তো তাঁর নিত্য ছায়া সঙ্গী। সে নিউজপ্রিন্ট ই হোক বা বইয়ের পাতা, কিমবা সেলুলয়েডের রঙিন দুনিয়া, তিন দুনিয়ায় অবাধ বিচরণকারী এই মহাপুরুষের নাম যে মতি নন্দী।আজ থেকে ঠিক নব্বই বছর আগে, ১৯৩১ সালের ১০ ই জুলাই উত্তর কোলকাতায় জন্মগ্রহন করেন মতি নন্দী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মতি নন্দী পেশায় প্রথমে আনন্দ বাজার পত্রিকার ক্রীড়া সাংবাদিক তারপর স্বগুনে সেই দৈনিকের এর ক্রীড়া সম্পাদকের পদ অলঙ্কৃত করেন । সংবাদ পরিবেশনার চিরাচরিত ধারার বাইরে এসে অন্য ধারার লেখার শুরু তাঁর জাদু কলমের হাত ধরেই। দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন খেলা কভার করার জন্য। শুধু ক্রিকেট বা ফুটবল নয়, সমান গুরুত্ব দিতেন সমস্ত খেলা কে । কভার করেছেন দু দুটি অলিম্পিক , ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিক আর ১৯৮৪ লস আঞ্জেলেস অলিম্পিক। রিটায়ার করার সময় উত্তরদায়িত্ব দিয়ে যান তাঁর গুণমুগ্ধ শিষ্য গৌতম ভট্টাচার্যের মতো যোগ্য উত্তরসূরির কাঁধে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন নিরন্তর সাহিত্য রচনা। ১৯৫৪ সালে দেশ সাপ্তাহিক পত্রিকায় একটি ছোট গল্প দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন সাহিত্যিক হিসেবে । বাঙালি সারা বছর দূর্গা পূজোর আশায় হাপিত্যেশে বসে থাকত শুধু নতুন জামা প্যান্ট কেনার জন্য নয়, পূজাবার্ষিকীতে মতি নন্দীর গল্পের জন্যও। প্রধানত কোন একটি খেলা কে কেন্দ্র করে কিশোর কিশোরীর জীবনের আবেগ কে সহজ ভাষায় বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। তাঁর লেখনীর সাবলীল জাদু আর নিখুঁত বর্ণনাময় উপস্থাপনায় গল্প আর বাস্তব গুলিয়ে গিয়ে কতবার যে কলাবতী, সত্যশেখর, রাজশেখর দের মত চরিত্রদের বইয়ের পাতা ছাড়িয়ে আমাদের ড্রইং রুমে বসে মিলেনিয়াম ম্যাচের ফল নিয়ে আলোচনা করতে ভিসুয়ালিজ করেছি তাঁর ইয়ত্তা নেই । শুধু কলাবতীর ই নয়, তাঁর সৃষ্ট বহু চরিত্র বাঙালি মননে চির অমর হয়ে আছে। সাদা খাম, গোলাপ বাগান, দু তিনটি ঘর এর মতো প্রায় পঁচিশটি কালজয়ী উপন্যাস এর স্রষ্টা তিনি । এছাড়াও আছে কোনি, স্ট্রাইকার, কুড়োন,অলৌকিক দিলুর মতো অসংখ্য গল্প । কোনি আর স্ট্রাইকার নিয়ে তো সিনেমাও হয়েছে । কোনি কে লড়াই করা শেখানোর সাথে সাথে হাজার হাজার কিশোর কিশোরীকে উদ্বুদ্ধ করেছেন জীবনের লড়াই জিততে । ফাইট কোনি ফাইট বলে চীৎকার করে ওঠা খিদ্দার স্রষ্টা মতি নন্দী জীবনের শেষ লড়াই টা হেরে যান ২০১০ সালের তেসরা জানুয়ারি হসপিটালের বেডে।

মতি নন্দীর সমস্ত বই এই লিংকে – https://boichoi.com/?product_cat=0&s=moti+nandi&post_type=product